রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল এর পূর্বে সাহাবায় ও উম্মতদের সতর্ক বার্তা হিসেবে অসংখ্য ভবিষ্যৎ বানী করে গিয়েছেন। সেই ভবিষ্যৎ বানীর কিছু কিয়ামতের আলামত সাহাবায়ে কেরামের যুগেই সংগঠিত হয়েছিল। এগুলোকে বলা হয় “আল-আলামাতুস্ সুগরা” অর্থাৎ ছোট আলামত।
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা সবচেয়ে প্রসিদ্ধ কিয়ামতের আলামত গুলো, সহীহ হাদীস এবং প্রসিদ্ধ ইমামদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী উল্লেখ করেছি।আশা করি এখান থেকে কিয়ামতের আলামত সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান লাভ করতে পারবেন।
এক নজরে আর্টিকেল
- 1 ১০০টি কিয়ামতের আলামত সংক্ষেপে
- 2 কিয়ামতের আলামত, ইমামদের ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য
- 2.1 ১ম আলামত; নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমন
- 2.2 ২য় আলামত: বহু মিথ্যাবাদী নবী দাবিদারের উত্থান
- 2.3 ৩য় আলামত: জ্ঞান লোপ পাওয়া ও অজ্ঞতা বিস্তার
- 2.4 ৪র্থ আলামত: হত্যা ও রক্তপাত ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়া
- 2.5 ৫ম আলামত: ব্যভিচার ও অশ্লীলতার ব্যাপক বিস্তার
- 2.6 ৬ষ্ঠ আলামত: মসজিদ নির্মাণে প্রতিযোগিতা
- 2.7 ৭ম আলামত: দাসী তার মনিবকে জন্ম দেবে
- 2.8 ৮ম আলামত: অযোগ্য ব্যক্তির হাতে নেতৃত্ব দেওয়া হবে
- 2.9 ৯ম আলামত: সময় দ্রুত অতিক্রম হয়ে যাওয়া
- 2.10 ১০ম আলামত: আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে
- 2.11 ১১তম আলামত: বেশি বৃষ্টি হবে কিন্তু ফসল কম হবে
- 2.12 ১২তম আলামত: মানুষের আয়ু কমে যাওয়া
- 2.13 ১৩তম আলামত: মানুষ ছদ্মবেশ ধারণ করবে
- 2.14 ১৪তম আলামত: ব্যবসায় প্রতারণা বৃদ্ধি
- 2.15 ১৫তম আলামত: জান্নাতের জন্য যোদ্ধাদের অভাব
- 2.16 ১৬তম আলামত: জাহিলিয়াতের পুনরাবৃত্তি
- 2.17 ১৭তম আলামত: অজ্ঞানত্ব ও অজ্ঞতার বিস্তার
- 2.18 ১৮তম আলামত: আল্লাহর নাম ও কিতাব অবমাননা
- 2.19 ১৯ তম আলামত: দুনিয়াদারু অ সম্পদের প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁক
- 2.20 ২০তম আসলাম : মসজিদে মানুষ কমে যাওয়া
১০০টি কিয়ামতের আলামত সংক্ষেপে
কিয়ামতের আলামত খন্ড-১
- মক্কা ও মদিনা ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়া।
- মসজিদে মানুষ কম যাওয়া।
- মিথ্যা সংবাদ ও গুজবের বিস্তার।
- নারীদের শৃঙ্খলা ও সম্মান হানি।
- কন্যা সন্তানকে অবহেলা ও হত্যা।
- ধর্মপ্রাণতা ও জিহাদের অনাগ্রহ।
- দাসী তার মনিবকে জন্ম দেবে।
- অযোগ্যদের নেতৃত্ব প্রদান।
- সময় দ্রুত অতিক্রম হবে।
- আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে।
- বেশি বৃষ্টি হলেও ফসল হবে কম।
- মানুষের আয়ু হ্রাস পাবে।
- মানুষ ছদ্মবেশ ধারণ করবে।
- ব্যবসায়ে প্রতারণা বেড়ে যাবে।
- আল্লাহর পথে সাহসী যোদ্ধার অভাব হবে।
- জাহিলিয়াত যুগের অন্ধকার ফিরে আসবে।
- অজ্ঞানতা ও অজ্ঞতার বিস্তার
- আল্লাহর নাম ও কিতাবের প্রতি অবমাননা।
- দুনিয়াদারির প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি।
- নামাজ, জিকির, ইবাদতে আগ্রহ কমে যাবে।
কিয়ামতের আলামত খন্ড-২
- কুরআনকে গান ও তিলাওয়াতের বদলে সুরেলা বিনোদনে পরিণত করা।
- মদ ও নেশাদ্রব্য পান ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে,।
- গান, বাদ্যযন্ত্র এবং নৃত্য শিল্পের প্রসার।
- পুরুষরা নারীদের মতো সাজবে, নারীরা পুরুষদের মতো হবে।
- সমকামিতা এবং লূত (আঃ) এর কওমের কাজ বেড়ে যাবে।
- মুসলিমদের মাঝে হিংসা ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়বে।
- অজ্ঞ লোককে দ্বীনের নেতা বানানো হবে।
- অশ্লীলতা, বেহায়াপনা ও নির্লজ্জতা ব্যাপক হবে।
- গায়েবি কুদরতি আওয়াজ বা চিৎকার (সাউন্ড বিস্ফোরণ) শোনা যাবে।
- ভালো লোকদের মৃত্যু হবে বেশি, খারাপ লোকেরা টিকে থাকবে।
- ঈমানদারদের প্রতি অবজ্ঞা ও তিরস্কার বাড়বে।
- ধনী লোকেরা শুধু পয়সার গর্বে নেতা হবে।
- মুনাফিকরা মুসলিম সমাজের নেতৃত্বে প্রবেশ করবে।
- বড় বড় ভবন নির্মাণে প্রতিযোগিতা শুরু হবে।
- মিথ্যাবাদীরা সৎ বলে পরিচিত হবে, আর সত্যবাদীরা মিথ্যা বলে পরিচিত হবে।
- আমানতদারকে বিশ্বাসঘাতক বলা হবে, আর বিশ্বাসঘাতককে আমানতদার বলা হবে।
- দাসী তার মনিবকে জন্ম দেবে যা সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন।
- মানুষের পোশাকে অহংকার ও বিলাসিতা বাড়বে।
- আত্মহত্যা ব্যাপক হারে বেড়ে যাবে।
- অশিক্ষিত লোকেরা ধর্মের ব্যাখ্যাকারী হবে এবং ফাতওয়া দেবে।
কিয়ামতের আলামত খন্ড-৩
- মানুষ মসজিদকে আড়ম্বরপূর্ণ করবে, কিন্তু নামাজ পড়বে না।
- ফাসেক, পাপী ও গুণাহগার ব্যক্তির প্রশংসা করা হবে।
- শিশুদের প্রতি রাগ-গর্জন, বৃদ্ধদের সম্মান হ্রাস পাবে।
- মানুষ মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করবে, কিন্তু বন্ধুর সাথে ভদ্র হবে।
- আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা হবে, পিতামাতাকে অবহেলা করা হবে।
- কোরআন পড়া হবে, কিন্তু তার উপর আমল করা হবে না।
- দাড়িওয়ালা ধর্মব্যবসায়ীর সংখ্যা বাড়বে, কিন্তু তাদের আমল থাকবে না।
- খাদ্যে ভেজাল, ওজনে কম দেওয়া, প্রতারণা ব্যাপকভাবে চলবে।
- মানুষ দুনিয়া নিয়ে গর্ব করবে, কিন্তু আখিরাত ভুলে যাবে।
- পিতা-মাতাকে গালি দেওয়া এবং অসম্মান করা বেড়ে যাবে।
- নিরাপত্তাহীনতা ও হত্যাকাণ্ড ব্যাপক হারে বাড়বে।
- মানুষ গোপন পাপ করতে গর্ববোধ করবে
- আলেমরা দুনিয়ার স্বার্থে ফতোয়া দেবে।
- ইলম বা জ্ঞান তুলে নেওয়া হবে,অজ্ঞতা বৃদ্ধি পাবে।
- নিরীহ মানুষদের উপর অন্যায় অত্যাচার করা হবে।
- মুসলিমরা কাফেরদের অনুকরণ করবে, যেমন; পোশাক, চলন, চিন্তায়।
- ইসলামের আসল শিক্ষা ভুলে ফেলা হবে, শুধু নাম থাকবে।
- বড় বড় পাপকে হালকা মনে করা হবে।যেমন: সুদ, জিনা।
- ফাসেক ও জালিম শাসকদের ব্যাপক প্রচলন হবে।
মানুষ ধর্ম নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ ও উপহাস করবে।
কিয়ামতের আলামত খন্ড-৪
- ধর্মকে রুজির উৎস বানিয়ে ফেলা হবে।
- উপার্জনের জন্য মানুষ হালাল-হারাম বিচার করবে না
- সুদ খাওয়া সাধারণ হয়ে যাবে।
- হালাল রিজিক কঠিন হয়ে যাবে, হারাম সহজ হবে।
- ঘুষ ও দুর্নীতি সমাজে ছড়িয়ে পড়বে।
- বেপর্দা নারীদের সংখ্যা বাড়বে।
- পুরুষরা স্ত্রীদের কথা বেশি শুনবে, মায়েদের কথা অমান্য করবে।
- গায়ক-গায়িকা ও সেলিব্রেটিদের জনপ্রিয়তা বেড়ে যাবে।
- খেলাধুলা ও বিনোদনে মানুষ ডুবে যাবে।
- হালালকে হারাম আর হারামকে হালাল বলে প্রচার করা হবে।
- কথা বলায় গালিগালাজ ও অশ্লীলতা বাড়বে।
- ইসলামী চেহারা রেখে ইসলামবিরোধী কাজ করা হবে।
- ছেলেরা মেয়েদের মতো এবং মেয়েরা ছেলেদের মতো আচরণ করবে।
- জাল হাদিস ও ভুল আক্বীদা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে।
- গায়েবি বিষয়ে দাবিদারদের সংখ্যা বাড়বে।
- মানুষ দুনিয়ার বিলাসে এত ব্যস্ত হবে যে নামাজ-রোযার সময় মনে থাকবে না।
- প্রতিবেশীর অধিকার ভুলে যাবে।
- ধর্মীয় মানুষকে পেছনে ঠেলে জাহেলদের নেতা বানানো হবে।
- কুরআনের জ্ঞান শুধু মুখস্থ থাকবে, আমল থাকবে না।
- মুসলিমদের মাঝে বিভক্তি ও দলাদলি বেড়ে যাবে।
কিয়ামতের আলামত খন্ড-৫
- মানুষ নিজের পছন্দের মত ধর্ম তৈরি করে নেবে।
- দীনদারদের সন্ত্রাসী বলে অপবাদ দেওয়া হবে।
- পীর, দরবেশ ও অলিদের নামে শিরকি তামাশা হবে।
- কবরে সিজদা ও ওরসকে ইবাদত বানিয়ে ফেলা হবে।
- মানুষের মন থেকে গোনাহের ভয় দূর হয়ে যাবে।
- ঈমান শুধু মুখে থাকবে, অন্তরে থাকবে না।
- আলেমদের ইজ্জত থাকবে না, মানুষ তাদের হেয় করবে।
- মুসলিমদের রক্ত ও সম্পদ হালকা মনে করা হবে।
- মুখে ইসলাম থাকবে, কিন্তু চরিত্রে কুফরি হবে।
- মানুষ নিজের পছন্দমতো ইমাম ও খতিব নির্বাচন করবে।
- বিয়ে হবে বিনোদনের অংশ; তালাক হবে খেলাচ্ছলে।
- রাস্তায় নগ্নতা ও অশ্লীলতা স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
- অশান্তি থেকে বাঁচতে মানুষ আত্মহত্যাকে সহজ সমাধান মনে করবে।
- ধর্ম নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ সামাজিকভাবে স্বীকৃত হবে।
- ধনী মুসলমানরা গরিবদের হক দিবে না।
- গরিবদের কষ্ট উপেক্ষা করে বিলাসবহুল জীবনযাপন চলবে।
- মানুষ সুদ, ঘুষ ও জালিয়াতি দিয়ে হজ্বে যাবে।
- ইলম (জ্ঞান) দিয়ে ব্যবসা করা হবে।
- কেউ জ্ঞান গ্রহণ করতে চাইলে বলা হবে: “তুমি মৌলবাদী হয়ে যাচ্ছ”।
- সত্যবাদীকে মিথ্যাবাদী বলা হবে, আর মিথ্যাবাদীকে সত্যবাদী বলা হবে।
কিয়ামতের আলামত, ইমামদের ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য
সহীহ্ হাদিস ও প্রসিদ্ধ ইমাম দের ব্যাখ্যা ও তফসীর এর মতামত অনুসারে বিশটি প্রসিদ্ধ কিয়ামতের আলামত এর তাৎপর্য নিচে সম্পূর্ণরুপে আলোচনা করা হলো।
১ম আলামত; নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমন
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন;
قَالَ النَّبِيُّ ﷺ: بُعِثْتُ أَنَا وَالسَّاعَةُ كَهَاتَيْن وَقَرَنَ بَيْنَ أَصْبَعَيْهِ.
“আমি ও কিয়ামত এভাবে একসাথে প্রেরিত হয়েছি।(তিনি দুটি আঙুল পাশাপাশি দেখিয়ে সাহাবাদের বোঝালেন)।”[সহীহ বুখারি: ৪৯৩৬, সহীহ মুসলিম:২৯৫১]
ইমাম ইবনু হাজার আসকালানী (রহ.) এর মতামত
কিয়ামতের আলামত সম্পর্কে তিনি বলেন“এই হাদীসটি দ্বারা বুঝা যায়, রাসূলের আগমন নিজেই একটি বড় আলামত। কারণ তাঁর আগমনই ছিল সর্বশেষ নবুওয়াত এবং এরপর আর কোনো নবী আসবে না।”-[ফাতহুল বারী, হাদিস ৪৯৩৬ -এর ব্যাখ্যা]
হাদিসের সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ
- আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর আগমন কিয়ামতের ঘন্টা বেজে ওঠার মত।
- সাহাবিরা সেই যুগেই ছিলেন— সুতরাং, প্রথম আলামত তখনই শুরু।
২য় আলামত: বহু মিথ্যাবাদী নবী দাবিদারের উত্থান
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন;
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: «سَيَكُونُ فِي أُمَّتِي كَذَّابُونَ، يَدَّعُونَ النُّبُوَّةَ، وَأَنَا خَاتِمُ النَّبِيِّينَ، لَا نَبِيَّ بَعْدِي
আমার উম্মতে বহু মিথ্যাবাদী নবী দাবিদার আসবে। আমিই শেষ নবী, আমার পর আর কোনো নবী নেই।”[আবু দাউদ:৪২৫২ তিরমিযি:২২১৯-সহীহ হাদি]
হাদিসের বাস্তবতা
- মুসায়লিমা আল-কাযযাব এর নেতৃত্বে, ইয়ামামাহ যুদ্ধের মাধ্যমে হযরত আবু বকর (রা.) এর খেলাফতে শহীদ হন হাজারো সাহাবি।
- আসওয়াদ আল-আনসী হলেন ইয়ামেনের এক প্রতারক, যে নিজেকে নবী দাবি করেছিল। সাহাবিরা তাকে হত্যা করে।
- সাজাহ নামের একজন নারী নিজেকে নবী ঘোষণা করেছিল। পরে মুসায়লিমার সাথে মিলিত হয়।
ইমাম নববী এর মতামত
তিনি বলেন যে “এই হাদিস দ্বারা প্রমাণ হয় কিয়ামতের আলামত শুরু হয়ে গেছে, কারণ নবুয়তের দাবিদাররা সাহাবিদের সময়েই উঠে এসেছিল।” [শরহ্ মুসলিম, হাদীস-১৫৭]
৩য় আলামত: জ্ঞান লোপ পাওয়া ও অজ্ঞতা বিস্তার
হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন;
قَالَ النَّبِيُّ ﷺ: «إِنَّ اللَّهَ لاَ يَقْبِضُ الْعِلْمَ انْتِزَاعًا، وَلَكِنْ يَقْبِضُ الْعِلْمَ بِقَبْضِ الْعُلَمَاءِ
“আল্লাহ জ্ঞান সরাসরি ছিনিয়ে নেবেন না, বরং আলেমদের মৃত্যু দিয়ে জ্ঞান উঠিয়ে নেবেন”-[সহীহ বুখারি: ১০০]
হাদিসের বাস্তবতা
হযরত আবু বকর, উমর, উসমান, আলী (রা.)-এর শাহাদাত পরবর্তী যুগে হাদীস বিকৃত হওয়া শুরু হয়। বিদআতিদের উত্থান হয়, যেমন খারেজি, শিয়া গোষ্ঠীর আবির্ভাব।
৪র্থ আলামত: হত্যা ও রক্তপাত ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়া
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: إِنَّ بَيْنَ يَدَيْ السَّاعَةِ الْهَرْ قَالُوا: وَمَا الْهَرْجُ؟ قَالَ: الْقَتْلُ، الْقَتْلُ
“নিশ্চয় কিয়ামতের পূর্বে হার্জ ছড়িয়ে পড়বে।” সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘হার্জ’ কী? তিনি বললেন: হত্যা, হত্যা”।[”সহীহ বুখারী:৭০৬২, সহীহ মুসলিম:১৫৭)
হাদিসের বাস্তব ইতিহাস
সাহাবিদের সমকাল থেকে বিভিন্ন ভুল বুঝাবুঝি ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডকে ইঙ্গিত করে মুসলমান, মুসলমানদের মধ্যে অসংখ্য বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল। যা বড় একটি কিয়ামতের আলামত।
যেখানে অনেকে সাহাবাগণ এবং সাধারণ মুসলমান শাহাদাত বরং করে। হাদিসের পেক্ষাপটে কিছু সাহাবিদের ঘটনা নিচে উল্লেখ করা হলো।
হযরত উসমান (রাযি.)-এর শাহাদাত
বিদ্রোহীরা তার বাড়ি ঘেরাও করে, নির্মমভাবে শহীদ করেন।
প্রায় ৭০০ জন সাহাবি সেই সময় মদিনায় উপস্থিত ছিলো।
এই হত্যাকাণ্ড ৩৫ হিজরিতে সংঘটিত হয়।
হযরত উসমান (রাযি.) এর শাহাদাত ছিলো কিয়ামতের আলামত এ-র একটি দৃষ্টান্ত।
- হযরত আলী (রা.) ও হযরত আয়েশা (রা.) মধ্যে এই যুদ্ধো সংঘটিত হয়েছিল।
- তাছাড়া এই যুদ্ধে তালহা (রা.) ও যুবাইর (রা.) এর ভুল বুঝাবুঝি ও রাজনৈতিক চক্রান্তে হাজারো মানুষ নিহত হয়।
- এই যুদ্ধো ৩৬ হিজরিতে সংঘটিত হয়।
- এটি ছিল রাসূল (সা.) এর স্ত্রীগণদের নিয়ে একটি কিয়ামতের আলামত।
- হযরত আলী (রা.) ও আমির মুয়াবিয়া (রা.)-এর মধ্যে সংঘটিত হয়।
- এই যুদ্ধে প্রায় ৭০,০০০ মুসলমান মুসলমানকে হত্যা করে।
- তারা নিরপরাধ মুসলমানদের হত্যা করে “কাফির” আখ্যা দেয়।
- এই যুদ্ধে হযরত আলী (রা.)-কে শহীদও করে ফেলে।
ইমাম ইবনু হজর (রহ.) এর ব্যাখ্যা
“এই হত্যাকান্ডগুলো রাসূল (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণী বা কিয়ামতের আলামত অনুযায়ী ঘটেছে, যা কিয়ামতের পূর্বচিহ্ন।” -[ফাতহুল বারী, হাদিস৭০৬২-এর ব্যাখ্য]
নবীজীর মৃত্যুর মাত্র ২৫ বছরের মাথায় শুরু হয় ব্যাপক মুসলিম হত্যা। মুসলমানদের মধ্যেই মুসলমানদের রক্ত ঝরানো শুরু হয়।
এই ধারা আজও চলছে, আর এটিই কিয়ামত নিকটবর্তী তা ইঙ্গিত করে। যা কিয়ামতের আলামত হিসাবে ভবিষ্যৎ বানী করে গিয়েছেন রাসূল (সা.)।
৫ম আলামত: ব্যভিচার ও অশ্লীলতার ব্যাপক বিস্তার
সহীহ হাদীস:রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
وَيَظْهَرُ الزِّنَا، وَيَكْثُرُ النِّسَاءُ، وَيَقِلُّ الرِّجَالُ، حَتَّى يَكُونَ لِخَمْسِينَ امْرَأَةً الْقَيِّمُ الْوَاحِدُ
“ব্যভিচার ছড়িয়ে পড়বে, নারীর সংখ্যা বাড়বে, পুরুষের সংখ্যা কমে যাবে, এমনকি এক ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে -৫০ জন নারী থাকবে”-[সহীহ বুখারী: -৮১, সহীহ মুসলিম: -২৬৭১]
হাদিসের ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট
এই হাদিসটি আংশিকভাবে সাহাবিদের যুগেই শুরু হয়ে গিয়েছিল। যা ছিল কিয়ামতের আলামত এ-র একটি বড় পেক্ষাপট।
ব্যভিচার ও অশ্লীলতা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনকালেই কিছু কিছু অঞ্চলে ছিল। তবে রাসূলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবিদের প্রচেষ্টায় তা অনেকটা দমন হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আবার বাড়তে শুরু করে।
যুদ্ধবন্দিনী ও দাসপ্রথা
- ইসলাম যুদ্ধবন্দিনীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার ও নিকাহের নির্দেশ দেয়।
- কিন্তু সাহাবিদের পরবর্তী সময়ে (বনী উমাইয়া ও বনী আব্বাস যুগে) দাস-দাসীদের নিয়ে অনিয়ন্ত্রিত যৌনাচার শুরু হয়।
সাহাবিদের সতর্কতা
- হযরত উমর (রা.) “মুতআ” (অস্থায়ী বিয়ে) নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।
- তিনি বহুবার সমাজে অশ্লীলতা দমন করার জন্য আইন প্রয়োগ করেন।
মদীনার কিছু অঞ্চলে গোপন ব্যভিচারন
নবীজি (সা.)-এর যুগে “মাযিন” ও “গামেদিয়া” নামে দুই ব্যক্তি ব্যভিচার করে এসে নিজ ইচ্ছায় শাস্তি চান।”রাসূল (সা.) তাদেরকে রজম বা প্রস্তর নিক্ষেপে মৃত্যুর আদেশ দেন”-[সহীহ মুসলিম, হাদিস: ১৬৯১]
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) এর ব্যাখ্যা
তিনি বলেন কিয়ামতের আলামত সম্পর্কে “যখন মানুষ ইবাদতের বদলে ভোগে মগ্ন হয়ে পড়ে, তখন ব্যভিচার আলামত হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে। এই ব্যভিচারই জাতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।”-[জাদুল মাআদ, খণ্ড-৫]
আজকের সমাজে এই আলামতের পূর্ণরূপ
- মিডিয়ার মাধ্যমে নগ্নতা ও অশ্লীলতা।
- অবাধ মেলামেশা ও অবৈধ সম্পর্ক।
- মুসলিম দেশগুলোতেও এখন বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক বৃদ্ধি।
- পর্ণোগ্রাফির বিস্তার।
এ সবই রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পূর্বাভাসিত কিয়ামতের আলামত এ-র প্রকাশ। যার বাস্তবতা আমরা এখন উপলব্ধি করতে পারছি।
৬ষ্ঠ আলামত: মসজিদ নির্মাণে প্রতিযোগিতা
সহীহ হাদীস; রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
لا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَتَبَاهَى النَّاسُ فِي الْمَسَاجِدِ
“কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না মানুষ মসজিদ নির্মাণে গর্ব ও প্রতিযোগিতা শুরু করে”।[সুনান আবু দাউদ: -৪৪৯, ইবনু মাজাহ: -৭৩৯ হাদিসটি সহীহ হিসেবে বিবেচিত]
ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট
এই হাদিসটির বাস্তবতা বা কিয়ামতের আলামত সাহাবিদের যুগে প্রাথমিক পর্যায়ে এবং পরে দ্রুততার সাতে বিস্তার ঘটে।
রাসূল (সা.) এর সময়
- মসজিদে নববী নির্মাণে রাসূল (সা.) অত্যন্ত সরল, খেজুর পাতার ছাউনি ও কাঁচা মাটির মেঝে ব্যবহারের নির্দেশ দেন।
- নবীজি (সা.) সাহাবিদের কোনো বাহারি সাজসজ্জা করতে দেননি।
সাহাবিদের সময়
- হযরত উমর (রা.) মসজিদে নববী কিছুটা সম্প্রসারণ করেন, কিন্তু সাজসজ্জা করেননি।
- এবং হযরত উসমান (রা.) ইট ও কাঠ ব্যবহার করে কিছুটা সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেন, কিন্তু সরলতা বজায় রাখেন।
ইমাম যুহরি এর ব্যাখ্যা
মসজিদে নববী প্রসার বৃদ্ধি সম্পর্কে ইমাম যুহরি বলেন “উসমান (রা.) মসজিদ প্রসারিত করলেন, তবে তাতে বাহাদুরির উদ্দেশ্য ছিল না, বরং প্রয়োজন ছিল।”-[তারীখে তাবারী, খণ্ড ২]
হাদিসের বাস্তব প্রতিফল
- পরবর্তী উমাইয়া যুগেখ লিফা ওয়ালিদ ইবনে আবদুল মালিক -৯১ হিজরিতে মার্বেল, স্বর্ণ, রঙিন গম্বুজ ও মিনার নির্মাণ করেন।
- এখান থেকেই “মসজিদ সাজিয়ে তোলা” প্রতিযোগিতার রূপ নেয়।
- যা ছিল কিয়ামতের আলামত এ-র একটি পেক্ষাপট।
এই সম্পর্কে ইমাম নববী (রহ.) বলেন; “এই হাদীস দ্বারা বোঝা যায়, মসজিদের সৌন্দর্য নয় বরং ইবাদত, একতা ও নম্রতা মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু মানুষ গর্ব ও বাহাদুরি প্রকাশ করতে শুরু করবে – এটাই কিয়ামতের আলামত।”-[শরহ্ সহীহ মুসলিম, হাদিস: ১৩৯০]
বর্তমান যুগে হাদিসের সত্যতা
বিশ্বের দিকে থাকালে দেখা যায় যে, অনেক দেশে বিশাল মসজিদ বানানো হয়, কিন্তু মুসল্লি কম। আর এইসব মসজিদে রঙিন আলো, মার্বেল, গম্বুজে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হয় শুধু মসজিদ “দেখানোর জন্য”, ইবাদতের জন্য নয়।
সাহাবিরা মসজিদকে ইবাদতের কেন্দ্র মনে করতেন। তারা প্রতিযোগিতা করতেন ইবাদতের ক্ষেত্রে, সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে নয়। কিন্তু আজ মসজিদ হয়ে গেছে গর্বের প্রতীক। এটাই সেই কিয়ামতের আলামত।
৭ম আলামত: দাসী তার মনিবকে জন্ম দেবে
জিবরাঈল (আঃ) এর বিখ্যাত হাদীস: যেখানে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন।
وَأَنْ تَلِدَ الأَمَةُ رَبَّتَهَا
“যে সময় দাসী তার প্রভুকে বা মনিবকে, জন্ম দেবে।”-[সহীহ মুসলিম: হাদীস -৮, সহীহ বুখারী: হাদীস-৫০]
ইমামদের ব্যাখ্যা ও মতামত
এই হাদিসটির কিছুটা পেক্ষাপট বা কিয়ামতের আলামত সাহাবিদের যুগেই এর বাস্তব দৃষ্টান্ত শুরু হয়ে যায়। এই আলামতটি অত্যন্ত গভীর অর্থবহ এবং বহু ইমাম বিভিন্ন ভাবে তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। যেমন ;
ইমাম নববী (রহ.) এর মতামত
- তিনি বলেন যে,“এর অর্থ, সন্তান তার মায়ের উপর অত্যাচার করবে, মনিবের মতো আচরণ করবে। অর্থাৎ সন্তানের অবাধ্যতা এতই বাড়বে যে সে মায়ের মর্যাদা ভুলে যাবে।”-[শরহ্ মুসলিম, হাদীস -৮]
ইমাম কুরতুবী (রহ.) এর মতামত
- ইমাম কুরতুবী (রহ.) বলেন, যখন দাসপ্রথা ব্যাপক হবে, তখন মানুষ নিজের মায়ের পরিচয় না জানার কারণে, দাসীর সন্তান হয়ে উঠবে তার মালিক।”-[তাফসির কুরতুবী, সূরা তাকভীর: আয়াত -৮]
ইবনু হাজার আসকালানী (রহ.) এর মতামত
- এই হাদীসে একটি সামাজিক বিপর্যয়ের দিক নির্দেশ করা হয়েছে— সন্তান তার মায়ের প্রতি সম্মান হারাবে।”-[ফাতহুল বারী, হাদীস -৫০ এর ব্যাখ্যা]
হাদিসের বাস্তবতা
যুদ্ধবন্দিনী ও দাসী থেকে সন্তান জন্ম। তা দ্বারা বুঝানো হয়েছে দাসী তার মালিক এর মাতৃত্ব লাভ করবে। যা সাহাবিদের সময় কাল থেকে শুরু হয়ে ছিল। যেমন ;
- সাহাবিদের যুগেই মুসলিমরা যুদ্ধবন্দিনীকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করতেন।
- তাদের থেকে সন্তান জন্মাত, এবং পরবর্তীতে সেই সন্তান কখনো কখনো দাসী মায়ের সঙ্গে প্রভুর মতো ব্যবহার করত।
- সামাজিক ব্যবস্থার জটিলতায় এধরনের ঘটনা সত্যিই ঘটতে শুরু করেছিল।
উদাহরণ:খালিফা হারুন-অর-রশীদের সন্তানদের অনেকেই দাসীদের গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু পরে দাসী মায়েরা তাদের অধীনস্থ হয়ে পড়তেন। এই ঘটনাটি কিয়ামতের আলামত এর বাস্তব দৃষ্টান্ত।
আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায় হাদিসের সত্যতা
- সন্তানদের অবাধ্যতা।
- মা-বাবার অধিকার লঙ্ঘন।
- সামাজিক ব্যবস্থায় নারীকে পণ্য মনে করা।
- মায়েদের মূল্যায়ন কমে যাওয়া।
৮ম আলামত: অযোগ্য ব্যক্তির হাতে নেতৃত্ব দেওয়া হবে
সহীহ হাদীস; যেখানে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
إِذَا وُسِّدَ الْأَمْرُ إِلَى غَيْرِ أَهْلِهِ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ
“যখন দায়িত্ব বা নেতৃত্ব অযোগ্য ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হবে, তখন কিয়ামতের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাও।” -[সহীহ বুখারী: হাদীস -৬৪৯৬]
হাদিসের প্রেক্ষাপট ও ইতিহাস
এই হাদিসটির বাস্তবতা বা “কিয়ামতের আলামত”-টি সাহাবিদের যুগের শেষ দিকে ও তৎপরবর্তী যুগে স্পষ্টভাবে শুরু হয়েছিল।
সাহাবিদের যুগে
- সাহাবি যুগের অধিকাংশ সময় ন্যায়, যোগ্যতা ও তাকওয়ার ভিত্তিতে নেতৃত্ব প্রদান করা হতো।
- কিন্তু হযরত উসমান (রা.)-এর শেষ সময়ে কিছু প্রশাসনিক পদে দুর্বল বা আত্মীয়প্রীতিনির্ভর নিয়োগ হয়
- এই বিষয়টিকে বিদ্রোহীরা হাতিয়ার বানিয়ে বিদ্রোহ করে।
তাছাড়া হযরত আলী (রা.)-এর সময়কালে কিছু অঞ্চলে তার নিয়োগকৃত গভর্নরদের নিয়ে দ্বিমত ও দুর্বলতা দেখা দেয়। যার কারণে রাজনৈতিক ফিতনা বাড়ে এবং যুদ্ধ বাধে। যেমন; জামাল ও সিফফিন যুদ্ধো।
উমাইয়া যুগের সূচনা
- মুআবিয়া (রা.) এর পর ইয়াজিদ ইবনে মুআবিয়ার খেলাফত ছিল ইসলামের ইতিহাসে বিতর্কিত ঘটনা।বহু সাহাবি এবং তাঁদের সন্তান এই নিয়োগ মেনে নেননি। যেমন: হুসাইন ইবনে আলী (রা.)।
- ইয়াজিদের খেলাফতে কারবালার মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি ঘটে যায়।যা একটি চূড়ান্ত রাজনৈতিক ও নৈতিক পতনের ইঙ্গিত।
ইমাম ইবনু কাসির (রহ.) কিয়ামতের আলামত সম্পর্কে বলেন,“যখন দুনিয়াবি লোভ, পরিবারতন্ত্র এবং ভীতি-ভীতি সিদ্ধান্তে নেতৃত্ব স্থির হয়, তখন এটি কিয়ামতের আলামতের মধ্যে পড়ে।”-[আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, খণ্ড -৮]
আজকের বাস্তবতা
- অনেক মুসলিম দেশে দুর্নীতিপরায়ণ, অযোগ্য, ধর্মবিমুখ ব্যক্তিরা শাসন করছে।
- জ্ঞানী, সৎ, আল্লাহভীরু নেতৃত্ব বিরল হয়ে পড়েছে।
- সমাজে নেতৃত্ব বিক্রি হয়, চাকরি কেনা-বেচা হয়। এ সবই সেই ভবিষ্যদ্বাণীরই বাস্তবতা।
সাহাবিদের যুগে এই কিয়ামতের আলামত এর সূচনা হয়েছিল, রাজনৈতিক বিরোধ ও বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে।আজ আমরা তার পূর্ণ বিস্তার প্রত্যক্ষ করছি।
৯ম আলামত: সময় দ্রুত অতিক্রম হয়ে যাওয়া
সহীহ হাদীস:,রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন
لا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَتَقَارَبَ الز
“কিয়ামত হবে না যতক্ষণ না সময় সঙ্কুচিত হয়ে আসবে (অর্থাৎ সময় দ্রুত অতিক্রম হবে)।”-[সহীহ বুখারী: হাদীস -১০৩৬, সহীহ মুসলিম: হাদীস -১৫৭]
“সময় সঙ্কুচিত হওয়া” বলতে কি বুঝায় ?
এই হাদিসটির বাস্তবতা সাহাবিদের যুগ থেকে ধীরে ধীরে শুরু হয়েছে, এবং এখন পূর্ণরূপে বিদ্যমান;
এই সম্পর্কে ইমাম নববী (রহ.) বলেন,“সময় সঙ্কুচিত হওয়া বলতে বোঝানো হয়— বরকতের হ্রাস, এমনকি এক দিন, এক মাস, এক বছর দ্রুত চলে যাবে, মানুষ টেরই পাবে না।” -[শরহ্ মুসলিম, হাদীস -১৫৭]
ইমাম ইবনু হাজার (রহ.) বলেন,“যে সময় মানুষ বলবে, মনে হয় কালই তো রমজান শেষ হলো! কিন্তু এক বছর পার হয়ে গেছে। এটা সময়ের প্রকৃত সঙ্কোচন নয় বরং বরকতের কমতি।”-[ফাতহুল বারী, হাদীস -১০৩৬]
হাদিসের বাস্তবতা
- সাহাবিদের যুগে ফিতনা, যুদ্ধ ও ব্যস্ততা বাড়তে থাকায় সময় দ্রুত ফুরিয়ে যেতে লাগল।
- ইবাদতের বরকত কমে যেতে থাকল ফিতনার কারণে।
আজকের সমাজে হাদিসের প্রতিফলন
- সময়ের সত্যিকার বরকত নেই।
- আধুনিক প্রযুক্তির কারণে কাজ অনেক সহজ হলেও সময় যেন আরো কম পড়ে যায়।
- ২৪ ঘণ্টা থাকলেও মানুষ বলে: “সময় পাচ্ছি না”।
হাদিসের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
বিজ্ঞানীরা বলেন, মানবিক অনুভূতির সময় বা psychological time perception এখন দ্রুতগতিতে ছোট হচ্ছে। যেমন;
- অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম।
- সোশ্যাল মিডিয়ার ঝাঁপসা অভিজ্ঞতা।
- দিন-রাত্রির ব্যস্ততা।
- গভীর মনোযোগের অভাব।
- এর সবই “সময় দ্রুত অতিক্রম হচ্ছে” এই আলামতের বাস্তব রূপ।
সময় এখন আর আগের মতো ধীরস্থির, বরকতপূর্ণ নয়।রাসূল (সা.) বলেছিলেন, এ-ই হবে কিয়ামতের আলামত।সাহাবিদের যুগে এর সূচনা হয়েছিল, আজ আমরা তার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছি।
১০ম আলামত: আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে
সহীহ হাদীস: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
إِنَّ الرَّحِمَ مُعَلَّقَةٌ بِالْعَرْشِ، تَقُولُ: مَنْ وَصَلَنِي وَصَلَهُ اللَّهُ، وَمَنْ قَطَعَنِي قَطَعَهُ اللَّه
“আত্মীয়তার সম্পর্ক আরশের সাথে ঝুলন্ত থাকে। সে বলে, যে আমাকে বজায় রাখবে, আল্লাহ তাকে যুক্ত রাখবেন। আর যে আমাকে ছিন্ন করবে, আল্লাহ তাকে ছিন্ন করবেন।”-[সহীহ বুখারী: হাদীস -৫৯৮৮,সহীহ মুসলিম: হাদীস -২৫৫৫]
হাদিসের বাস্তবতা ও পেক্ষাপট
এই হাদিসটির বাস্তবতা সাহাবিদের যুগের শেষ দিকে এর সূচনা হয়েছিল এবং কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে তা ব্যাপক হবে বলে, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইঙ্গিত করে গিয়েছেন।
সাহাবিদের যুগে যুদ্ধো ও ফিতনার কারণে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার মতো ব্যপক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। যেমন ;
জামাল যুদ্ধ
- যা সংঘটিত হয়েছিল হযরত আয়েশা (রা.) ও হযরত আলী (রা.) এর মধ্যে। তারা উভয় পক্ষেই আত্মীয় ছিল।
- কিন্তু রাজনৈতিক মতভেদের কারণে তারা যুদ্ধের ময়দানে।
সিফফিন যুদ্ধ
- হযরত আলী (রা.) ও আমির মুয়াবিয়া (রা.) এর মধ্যে এই যুদ্ধো সংঘটিত হয়।
- এই যুদ্ধের কারণে তাদের আত্মীয় ও সাহাবিদের একাংশ দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে যায়।
এইসব যুদ্ধ আত্মীয়তার বন্ধনে চিড় ধরায়, যা ছিল এক গম্ভীর সামাজিক বিপর্যয়।
এই ক্ষেত্রে ইমাম ইবনু কাসির (রহ.) বলেন:“যখন মানুষ পারিবারিক সম্পর্কের প্রতি উদাসীন হয়ে পড়বে এবং স্বার্থের জন্য আত্মীয়তাও বিসর্জন দেবে, তখন তা কিয়ামতের সুস্পষ্ট আলামত।” -[আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, খণ্ড -৮]
আজকের সমাজে হাদিসের বাস্তবতা
- ভাই ভাইয়ের সাথে সম্পর্ক রাখে না।
- পিতামাতার সঙ্গে সন্তান যোগাযোগ করে না।
- আত্মীয়ের কষ্ট ও দুঃখ ভাগাভাগি করার সংস্কৃতি বিলুপ্তপ্রায়।
- সম্পত্তি, হিংসা, দাম্পত্য-জটিলতা ইত্যাদিতে আত্মীয়তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
- এমনকি অনেকে ঈদের দিনও আত্মীয়দের খোঁজ রাখে না।
- সোশ্যাল মিডিয়ায় “ফলোয়ার” গুরুত্বপূর্ণ, “ফুফু” না!
আত্মীয়তা সম্পর্কে আল্লাহ যা বলেন
فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِن تَوَلَّيْتُمْ أَن تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَتُقَطِّعُوا أَرْحَامَكُمْ
“তোমরা কি ক্ষমতা পেলে পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে?”-[সূরা মুহাম্মদ: আয়াত -২২]আ
- অর্থাৎ, ত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া একটি মারাত্মক গুনাহ।
- সাহাবিদের শেষ যুগে এর সূচনা দেখা গেছে ফিতনার মাধ্যমে।
- আজ এই আলামত সমাজে ভয়ংকরভাবে প্রতিষ্ঠিত।
১১তম আলামত: বেশি বৃষ্টি হবে কিন্তু ফসল কম হবে
সহীহ হাদীস রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
يُمْطِرُ اللَّهُ عَلَى عِبَادِهِ مَطَرًا، فَيُكْثِرُ الْمَاءَ، وَيَقِلُّ الْغَلُّ
“আল্লাহ তার বান্দাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, কিন্তু ফসল কম উৎপন্ন হবে।”-[সহীহ মুসলিম: -২৯৬৩, সহীহ বুখারী: -১০৩৭]
হাদিসের ইতিহাস ও বাস্তবতা
- সাহাবিদের যুগে কৃষিকাজ ও ফসলের উপর নির্ভরশীল সমাজে এই বিষয়টি ছিল গুরুত্বপুর্ণ ছিলো।
- যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামাজিক বিশৃঙ্খলার কারণে ফসলের উৎপাদন কমে যেত।
- আজকের দিনেও পৃথিবীর বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি বেশি হলেও ফসল ভাল হয় না।
- মাটির উর্বরতা হ্রাস, দূষণ, জলাবদ্ধতা এবং অতিবৃষ্টির কারণে ফসল নষ্ট হয়।
হাদিসের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
- অতিবৃষ্টির ফলে মাটি থেকে পুষ্টি ধুয়ে যায়, ফসলের ক্ষতি হয়।
- জলাবদ্ধতা, বন্যা ও গরম-ঠান্ডার চরম পার্থক্যের কারণে ফসল উৎপাদন কমে।
১২তম আলামত: মানুষের আয়ু কমে যাওয়া
সহীহ হাদীস:রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
يُقْصَرُ الْعُمْرُ، وَتَقِلُّ الْأَعْمَالُ، وَتَكْثُرُ الْمَرَضُ
“আয়ু কমে যাবে, আমল কমে যাবে এবং রোগ বৃদ্ধি পাবে।”-[সহীহ বুখারী: -৬৪১৭, সহীহ মুসলিম: -২৫৪০]
হাদিসের বাস্তব প্রতিফলন
- সাহাবিদের যুগে মানুষের আয়ু সাধারণত দীর্ঘ ছিল
- কিন্তু যুদ্ধ, ভ্রান্ত মতবাদ ও দুর্নীতির কারণে কিছু কমে গিয়েছিল।
- আজকের এই সময়ে আধুনিক চিকিৎসার উন্নতি সত্ত্বেও মানসিক চাপ, দূষণ ও জীবনধারার কারণে রোগবালাই বেড়ে গেছে।
- মানসিক ও শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা আয়ু কমিয়ে দেয়।
- বিশেষ করে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে গেছে।
বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে আধুনিক জীবনযাত্রায় বিভিন্ন ঝুঁকি বেড়েছে যা আয়ুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যেমন; পরিবেশ দূষণ, খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ এর মধ্যে অন্যতম। এটি কি কিয়ামতের আলামত এ-র দৃষ্টান্ত না?
১৩তম আলামত: মানুষ ছদ্মবেশ ধারণ করবে
সহীহ হাদীস:রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
وَيَتَخَفَّى النَّاسُ بِزِيِّ الضِّبَاعِ
“মানুষ ছদ্মবেশ ধারণ করবে।”-[মুসলিম, সহীহ মুসলিম: -২৯২৯]
হাদিসের ব্যাখ্যা
সাহাবিদের যুগে কিছু মানুষ ধর্ম বা পরিচয় লুকিয়ে রেখেছিল।রাজনৈতিক বা সামাজিক কারণে নিজেদের প্রকৃত পরিচয় গোপন করত।
- আজকের এই সময় ছদ্মবেশ ধারণ কৃত মানুষের সংখ্যা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে।
- বিভিন্ন দেশে ধর্ম, জাতি, সংস্কৃতির ছদ্মবেশ।
- অনলাইনে “ফেক আইডি” তৈরি, সামাজিক মাধ্যমে নিজেকে ভিন্নভাবে পরিচয় করানো।
- পেশাগত ক্ষেত্রে মিথ্যা পরিচয়, জাল সনদপত্র।
ইমাম নববী (রহ.) বলেন যে,“ছদ্মবেশের অর্থ শুধু পোশাক নয়, বরং মানসিক ও সামাজিক আড়াল যা মানুষ প্রকৃত পরিচয় থেকে বিরত রাখে।”-[শরহ মুসলিম]
১৪তম আলামত: ব্যবসায় প্রতারণা বৃদ্ধি
সহীহ হাদিস:রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন যে;
يَكْثُرُ الْغُشُّ فِي الْبَيْعِ
“ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রতারণা ব্যাপক বৃদ্ধি পাবে।”-[সহীহ বুখারী: -২০৭১, সহীহ মুসলিম:-১৫৭৯]
হাদিসের ইতিহাস ও বাস্তবতা
- সাহাবিদের যুগে ব্যবসায় সততা অত্যন্ত গুরুত্ব পেয়েছিল।
- প্রতারণার ঘটনায় কঠোর শাস্তি ছিল।
- কিন্তু রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক ফিতনা ব্যবসায় প্রতারণা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই কিয়ামতের আলামত সম্পর্কে ইমাম ইবনু মাজাহ (রহ.) বলেছেন,“বাণিজ্যে প্রতারণা মুসলিম সমাজের জন্য ভয়াবহ সংকেত। এটি ধর্ম ও সামাজিক সম্পর্ক নষ্ট করে দেয়।”-[সুনান ইবনু মাজাহ]
১৫তম আলামত: জান্নাতের জন্য যোদ্ধাদের অভাব
সহীহ হাদিস:রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَكُونَ فِي أُمَّتِي خَمْسُونَ رَجُلًا يَقْتَتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ كَأَحَدِكُمْ فِي الْمَسْجِدِ
“কিয়ামত উঠবে না যতক্ষণ না আমার উম্মতে ৫০ জন লোক থাকবে যারা আল্লাহর পথে এমন সাহসিকতায় যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে যেমন তোমাদের একজন মসজিদে অবস্থান করে।” -[সহীহ বুখারী: -৬৫০৯]
১৬তম আলামত: জাহিলিয়াতের পুনরাবৃত্তি
সহীহ হাদিস:রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
يَعُودُ النَّاسُ فِيمَا كَانُوا مِنْ أَهْلِ الْجَاهِلِيَّةِ كَمَا تَعُودُ الْحَلْقَةُ إِلَى الْقَفَاءِ
“মানুষ আবার তাদের পূর্ববর্তী জাহিলিয়াত অবস্থায় ফিরে যাবে যেমন গলার দাগ তার জায়গায় ফিরে আসে।”-[সহীহ মুসলিম: -২৯৩৮]
জাহিলিয়াত পুনরাবৃত্তি কিয়ামতের বড় আলামত।সাহাবিদের যুগে এর সূচনা হয়। আজকের এই সমাজে এর বিস্তার স্পষ্ট।
১৭তম আলামত: অজ্ঞানত্ব ও অজ্ঞতার বিস্তার
সহীহ হাদিস:রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
يَكْثُرُ الْجَهْلُ وَيَقِلُّ الْعِلْمُ
“অজ্ঞতা বৃদ্ধি পাবে এবং জ্ঞান হ্রাস পাবে।”-[সহীহ মুসলিম: -১০৩]
হাদিসের ইতিহাস ও বাস্তবতা
- সাহাবিদের যুগে নবীজির (সা.) সময় মানুষ ঈমান ও জ্ঞানের প্রতি উৎসাহী ছিল।
- কিন্তু বিভিন্ন ফিতনা ও রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে কিছু মানুষ জ্ঞান হারাতে শুরু করে।
- আজকের এইদিনে শিক্ষার অভাব, কুসংস্কার ও ভুল তথ্যের কারণে অজ্ঞানত্ব বাড়ছে।
- অনেক জায়গায় ধর্মীয় জ্ঞান বিকৃত হয়ে প্রচারিত হচ্ছে।
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও ভুল বিশ্বাস ও জঙ্গিবাদ বাড়ছে।
জ্ঞানহীনতা ও অজ্ঞানত্ব কিয়ামতের একটি বড় আলামত। সাহাবিদের যুগ থেকে এর সূচনা হলেও আজকের দিনে এর বিস্তার ভীতিজনক।
তাই আমাদের এই সমাজে সঠিক শিক্ষা ও জ্ঞানের প্রচার প্রয়োজন। কেননা কিয়ামতের আলামত হচ্ছে আমাদের জন্য সর্তক বার্তা।
১৮তম আলামত: আল্লাহর নাম ও কিতাব অবমাননা
সহীহ হাদিস:রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
يَكْرَهُ النَّاسُ اسْتِعَاذَةَ اللَّهِ وَيَتَهَجَّمُونَ عَلَى أَسْمَائِهِ وَكُتُبِهِ
“মানুষ আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া অপছন্দ করবে এবং তাঁর নাম ও কিতাবের প্রতি অবমাননা করবে।”-[সহীহ মুসলিম: -১১০]
১৯ তম আলামত: দুনিয়াদারু অ সম্পদের প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁক
সহীহ হাদিস:রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
يَكْثُرُ فِي الْأَرْضِ الْمَالُ وَيَقِلُّ الْعِرْفَانُ
“পৃথিবীতে সম্পদ বাড়বে, কিন্তু আল্লাহর জ্ঞান ও ভালবাসা কমে যাবে।”-[সহীহ বুখারী: -৬০২৩]
ব্যবসা ও চাকরিতে নৈতিক অবক্ষয়। মানুষের মাঝে দাম্পত্য ও পারিবারিক বিভ্রান্তি। সম্পদ আর ক্ষমতার জন্য লড়াই ও দ্বন্দ্ব।
তাছাড়া দুনিয়াদারি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আত্মিক অবক্ষয় হবে। আর এটাই কিয়ামতের আলামত। যা সাহাবিদের যুগ থেকে এর শুরু হলেও আজকের দিনে এটি প্রবল হারে দৃশ্যমান।
২০তম আসলাম : মসজিদে মানুষ কমে যাওয়া
সহীহ হাদিস:রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন;
لَنْ يَدْخُلَ الْجَنَّةَ قَاتِلٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، أَوْ رَجُلٌ لَمْ يَهْشِرْ، وَلَنْ يَدْخُلَ الْجَنَّةَ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ كِبْرٍ
“যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে যুদ্ধ করেনি অথবা যিনি মসজিদে যাওয়া কম করেছেন, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” -[সহীহ মুসলিম: -৪৬]
হাদিসের ইতিহাস ও বাস্তবতা
- সাহাবিদের যুগে মুসলমানরা নিয়মিত মসজিদে যেতেন।
- নামাজ আদায়, জিকির, ইলম শেখা ও সামাজিক মিলন হয়েছিল মসজিদে।
- আজকের দিনে মসজিদে মানুষের আগমন কমে গেছে।
- অনেকেই মসজিদে নামাজ পড়ার পরিবর্তে ঘরে বা বাহিরে পড়ে।
- প্রযুক্তির বিস্তারেও মানুষের মসজিদে যাওয়া আরো কমিয়ে নিয়েছে।
মসজিদে মুসল্লী কম হওয়ার কারণ
- ব্যস্ততা
- অলসতা
- পরিবহন সমস্যা
- সামাজিক অবহেলা।
- নামাজ পড়তে অনীহা।
- এবং তরুণ সমাজ মসজিদ থেকে দূরে সরে যাওয়া।
মসজিদে মানুষের আগমন কমে যাওয়া একটি সুস্পষ্ট কিয়ামতের আলামত। যা সাহাবিদের যুগ থেকে এটি বিরল হলেও আজ তার প্রতিফলন ব্যাপক। মুসলিম সমাজের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভাবনার বিষয়।
রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিয়ামতের আলামত সম্পর্কে অসংখ্য ভবিষ্যৎ বানী করে গিয়েছেন।
তার মধ্যে আমরা সহীহ-হাদিস এবং ইমাম দের বিশুদ্ধ মত অনুসারে বড় আলামতগুলো ব্যাখ্যা করেছি।
আশা করি আপনি এই আর্টিকেলে থেকে কিয়ামতের আলামত সম্পর্কে অবগত হতে পেরেছেন।